দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হলেন বার্সেলোনা প্রেসিডেন্ট বারতমেউ

0
196
দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হলেন বার্সেলোনা প্রেসিডেন্ট বারতমেউ

ঘটনা এখন অন্যদিকে মোড় নিচ্ছে। মাস কয়েক আগে ম্যানচেষ্টার সিটি যখন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বয়কট হল বারতমেউ উয়েফাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। এবার, তিনি নিজেই অপকর্ম আর কেলেঙ্কারির দায়ে অভিযুক্ত। ক্লাবের খেলোয়াড়দের নামে কুৎসা রটাতে এজেন্সি ভাড়া করা আর ক্লাবের অর্থ নিজের ব্যক্তিগত প্রয়োজনে খরচ করার জন্য তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে কাতালান পুলিশ ফোর্স (লস মোজোস দে এসকাদ্রা)।

দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হলেন বার্সেলোনা প্রেসিডেন্ট বারতমেউ

এমনিতেই ক্লাবের ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসির ক্লাব ছাড়ার ব্যাপার স্যাপার নিয়ে গত প্রায় ২ সপ্তাহ যাবত তোলপাড় বার্সেলোনা আর সেই সাথে ফুটবল বিশ্ব। বিগত বেশ কয়েক বছর যাবত চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিষ্প্রভ বার্সেলোনা। এর পরেও তারা ঘরোয়া সাফল্য পাচ্ছিল। এবার তাও হল না। ফলাফল – মেসি ক্লাব ছাড়তে চাওয়া। দিনদিন পরিস্থিতির অবনমনের কারণে বিতৃষ্ণ হয়ে উঠেছেন তিনি।

এদিকে, মেসির বাবা হোয়ে মেসিও এখন বার্সেলোনায় অবস্থান করছেন। তার সাথে বারতমেউ এর বৈঠকও হয়েছে কিন্তু ফলাফল ছাড়া। এরই মধ্যে ঘটনা নতুন দিকে গড়াল। বারতমেউ এর বিরুদ্ধে দুর্নীতির দায়ে অভিযোগ এনেছে কাতালান পুলিশ। এল মুণ্ডো পত্রিকার খবর অনুসারে, ঘটনা প্রমাণিত হলে জেলে যাওয়া অনেকটাই নিশ্চিত বারতমেউ এর।

এই অভিযোগটির নাম হচ্ছে “বার্সাগেট” কেলেঙ্কারি। বারতমেউ নিজের ব্যক্তিস্বার্থে ক্লাবের অর্থ জালিয়াতি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বার্সার অন্দরমহলের অনেক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্প্যানিশ মিডিয়াতে বেশ ঝড় তুলেছে।

এই বছরের শুরুর দিকে ক্যাদেনা সার পত্রিকা ডকুমেন্ট প্রকাশ করেছিল যে, বারতমেউ নাকি বার্সার বেশ কয়েকজন সিনিয়র খেলোয়াড়কে আক্রমন ও তাদের ইমেজ নষ্ট করার জন্য থার্ড পার্টি এজেন্সিকে ভাড়া করেছিলেন। অইসব খেলোয়াড়দের মধ্যে লিওনেল মেসি, পিকেদের মত সিনিয়ররা ছিল। এর একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল বার্তেমেউর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা ও তাঁর সভাপতিত্ব নিশ্চিত করা।

বার্সেলোনার লিজেন্ডারি মিডফিল্ডার জাভি হারনান্দেজ, পেপ গারদিওলা, কার্লোস পুয়োল এমনকি প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ভিক্টর ফন্ট, বেনেদিত এরাও নাকি ছিল তাদের টার্গেটে। এদের প্রত্যেকের ভাবমূর্তি নষ্টের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে গেছেন বারতমেউ আর তার অনুসারীরা। আর এজন্যে তিনি “আইথ্রি ভেঞ্চার” নামক এক কোম্পানিকে নাকি নিয়োগ দিয়েছিলেন।

এই কম্পানি ফেসবুক এবং টুইইারে বিভিন্ন মেসেজিং এর মাধ্যমে অন্যদেরকে অসম্মানিত করতে প্ররোচনা করে। এল মুণ্ডো এর বরাত অনুযায়ী, বারতমেউ এই কোম্পানিকে তাদের সত্যিকারের মার্কেট ভ্যালুর চাইতে প্রায় ছয়গুন বেশি পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করেছেন। এখন প্রশ্ন উঠেছে কেন তিনি এত বেশি অর্থ খরচ করতে গেলেন? এর পিছনে কি অন্যকোন উদ্দেশ্য আছে নাকি এই অর্থ তিনি নিজের কাজে লাগিয়েছেন? প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।

কাতালান এই ক্লাবটির বিরুদ্ধে এর আগেও এরকম অভিযোগ তুলেছিল ক্যাদেনা সার। তবে, তারা সবসময় এটা প্রত্যাখ্যান করে এসেছে। এছাড়া, উপযুক্ত সাক্ষ্য, প্রমানো ছিল না। তবে, এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। বারতমেউ এমনিতেই “মেসি কাহিনী” এর জন্য ব্যাপক সমালোচিত ঘরে বাইরে। তাই তার বিপদ হয়ত বার্সা ভক্তদের জন্য একপ্রকার সুখবরও বয়ে আনতে পারে! এখন দেখা যাক, জল কতদূর গড়ায়!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here